ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পদে পরিবর্তন আসছে—এমন জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। রোববার আইজিপি বাহারুল আলম পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়লেও সরকারিভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে নতুন পুলিশপ্রধান কে হচ্ছেন, তা নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, বাহিনীর গতিশীলতা ও জনআস্থা বাড়াতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কোনো কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় উঠে এসেছে।
আলী হোসেন ফকির
সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে প্রথমে চাকরিচ্যুত এবং পরে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় তাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি চাকরিতে ফিরে আসেন এবং ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হন।
কর্মজীবনে তিনি একাধিক জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ছিলেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। বাগেরহাটের এই কর্মকর্তা পেশাগত দক্ষতা ও কঠোরতার জন্য পরিচিত।
আনসার আলী পাঠান
আইজিপি পদের আলোচনায় আছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আনসার উদ্দিন খান পাঠান। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালে অবসর নেওয়ার আগে তিনি পেশাদারিত্ব, সততা ও মানবিক নেতৃত্বের জন্য পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকায় অতীতে তিনি নানা চাপের মুখে পড়েন। অবসরের পর সমাজসেবা ও লেখালেখিতে সক্রিয় হন। নেত্রকোনার পূর্বধলার বাসিন্দা এই কর্মকর্তা পুলিশ বাহিনীর অনেক তরুণ সদস্যের কাছে শিক্ষক ও মেন্টর হিসেবে পরিচিত।
হাসিব আজিজ
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার, অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজও আলোচনায় রয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি সিএমপির কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে সিআইডির ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭১ সালের ৩০ ডিসেম্বর শরীয়তপুরে জন্ম নেওয়া হাসিব আজিজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমকম এবং যুক্তরাজ্যের হল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে পুলিশে যোগ দিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাবা এম আজিজুল হকও বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি ছিলেন।
সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত
নতুন সরকার শপথের পর মন্ত্রিসভা গঠন হবে এবং সেখানেই আইজিপি নিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। এদিকে আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগ ঘিরে কিছু বিতর্কও রয়েছে। বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে তার নাম আসায় গত বছর তার অপসারণ চেয়ে রিট হয়েছিল, যদিও আদালত তা খারিজ করেন।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ পুলিশের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে কি না—এ প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে।

আপনার মতামত লিখুন :