ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ভিডিও এডিট করে চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা মানববন্ধন করেছেন।
২৯ জুন (রবিবার) সকাল ১১টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বুধন্তি বাসস্ট্যান্ডে উপজেলা বিএনপির বুধন্তি ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মুসাহিদুল ইসলাম সোহেল এর নেতৃত্বে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ অংশ নেন।
ভুক্তভোগী মুসাহিদুল ইসলাম সোহেল জানান, “অগ্রযাত্রা এক্সক্লুসিভ” নামক অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক ইয়াছিন মাহমুদ এবং বিজয়নগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম কামরুল হাসান শান্ত যৌথভাবে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে একটি পর্নোগ্রাফি ভিডিও এডিট করে মোবাইলে পাঠান এবং আর্থিক চাঁদা দাবি করেন।
তিনি বলেন, “আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ১৮ জুন অগ্রযাত্রা এক্সক্লুসিভ মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করে। এই অপপ্রচারের ফলে আমার সামাজিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।”
ভুক্তভোগী আরো জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগে বিজয়নগর থানায় একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। সর্বশেষ, এ বিষয়ে ২২ জুন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে সি আর ৫৭৭/২৫ নম্বরে।
এছাড়াও, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, যাতে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিডিও প্রচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, “সাংবাদিকতার পবিত্র পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি শ্রেণি অপসাংবাদিকতা করছে। তারা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে ও নিরীহ মানুষদের মানহানি করছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে।”
তারা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এই ঘটনাটি শুধু একজন ব্যক্তির মানহানির প্রশ্ন নয়, বরং সাংবাদিকতার পবিত্রতার ওপর আঘাত। সমাজে প্রকৃত সাংবাদিকতার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও।

আপনার মতামত লিখুন :