ঢাকা বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ উন্মাদনা ফিকে কেন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬, ০৫:১৮ বিকাল

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল সামনে এলেই বাংলাদেশজুড়ে সাধারণত শুরু হয় ভিন্ন এক উৎসবের আবহ। অলিগলিতে উড়তে থাকে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা, চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই জমে ওঠে তর্ক-বিতর্ক। কিন্তু এবারের দৃশ্য কিছুটা আলাদা। বিশ্বকাপ দুয়ারে কড়া নাড়লেও এখনো দেখা যাচ্ছে না সেই চিরচেনা উন্মাদনা। ফুটবলপ্রেমীদের মতে, একাধিক কারণ মিলেই এবারের পরিবেশ কিছুটা শান্ত।

ফুটবল অনুরাগী মেহেদী জামান সনেট মনে করেন, আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ জয় সমর্থকদের আবেগে বড় প্রভাব ফেলেছে। তার ভাষায়, দীর্ঘ ৩৬ বছর অপেক্ষার পর ট্রফি জেতার স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আর্জেন্টিনা ভক্তদের মধ্যে এখন এক ধরনের মানসিক তৃপ্তি কাজ করছে। গত বিশ্বকাপে মেসির হাতে ট্রফি ওঠার আকাঙ্ক্ষাই ছিল সবচেয়ে বড় আবেগের জায়গা। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়ে যাওয়ায় এবার চাপ ও উদ্বেগ অনেকটাই কম।

তিনি আরও বলেন, ব্রাজিল সমর্থকদের অবস্থাও খুব ভিন্ন নয়। ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ জিততে না পারায় তাদের আত্মবিশ্বাসেও কিছুটা ভাটা পড়েছে। প্রতিবার প্রত্যাশা নিয়ে শুরু করেও হতাশ হতে হওয়ায় এবার অনেক সমর্থক আগেভাগে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখাতে চাইছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল বা সমালোচনার ভয়ও তাদের কিছুটা সংযত করে রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।

ব্যাংকার ও ফুটবলপ্রেমী নাদিম হাসান রোহান মনে করেন, বর্তমানে ক্লাব ফুটবলের জনপ্রিয়তা বিশ্বকাপের উত্তাপকে কিছুটা ছাপিয়ে যাচ্ছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালসহ ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের বড় ম্যাচগুলো এখন অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। পাশাপাশি ঈদুল আজহার প্রস্তুতি ও কেনাকাটার ব্যস্ততাও মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে নিয়ে গেছে। তবে তার বিশ্বাস, ঈদের পর আবারও দেশের বিভিন্ন জায়গায় পতাকা উড়বে এবং বিশ্বকাপ ঘিরে আগের চেনা আবহ ফিরে আসবে।

ব্রাজিল সমর্থক ব্যবসায়ী ইফতেখারুল ইসলাম শিমুল মনে করেন, সময়ের সঙ্গে ফুটবল উন্মাদনার ধরনও বদলেছে। আগের মতো রাস্তায় বড় আয়োজন কম দেখা গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। অফিস কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় এখনো জার্সি পরে প্রিয় দলকে সমর্থনের সংস্কৃতি বজায় আছে বলে জানান তিনি।

ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের মতে, এবারের বিশ্বকাপ উন্মাদনা কম মনে হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ ঈদ। তার মতে, মানুষ এখন বাড়ি ফেরা, কেনাকাটা ও পারিবারিক প্রস্তুতি নিয়েই বেশি ব্যস্ত। এছাড়া সাম্প্রতিক ক্রিকেট সিরিজের আবহও ফুটবল আলোচনাকে কিছুটা আড়ালে রেখেছে। তবে ঈদের ছুটির পর বিশ্বকাপের উত্তেজনা দ্রুত বাড়বে বলেই তিনি মনে করেন।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহসিন হাসানও মনে করেন, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয় সমর্থকদের মানসিক চাপ কমিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে ব্রাজিল দল নিয়েও এবার সমর্থকদের মধ্যে খুব বেশি আত্মবিশ্বাস নেই। আর বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের বড় অংশ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকেন্দ্রিক হওয়ায় ইউরোপিয়ান দলগুলোর উপস্থিতি তুলনামূলক কম আলোচিত হচ্ছে।

তবে সব আলোচনা ও বিশ্লেষণের শেষে প্রায় সবাই একমত—বাংলাদেশে বিশ্বকাপের আবহ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। বরং সময়ের অপেক্ষা। ঈদের ব্যস্ততা শেষ হলেই আবারও পতাকায় ছেয়ে যাবে ছাদ-বাড়ি, জার্সিতে রঙিন হবে শহর, আর ফুটবল জ্বরে কাঁপবে পুরো দেশ।

 

Link copied!