ঢাকা বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল নিজেই ‘সংক্রমণ’ ঝুঁকিতে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬, ০৫:২৭ বিকাল

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত দেশের একমাত্র বিশেষায়িত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল। ১৯৫৮ সালে নির্মিত এই হাসপাতালটি শুরুতে ‘সাততলা হাসপাতাল’ নামে পরিচিত ছিল। দেশের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীদের বিশেষায়িত চিকিৎসা ও রোগ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ১৯৬১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয়। তবে সময়ের ব্যবধানে সংক্রামক রোগ নিরাময়ের এই প্রধান কেন্দ্রটি নিজেই এখন নানা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও তীব্র ব্যবস্থাপনা সংকটে আক্রান্ত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সার্বিক চিকিৎসাব্যবস্থায় কিছুটা পরিবর্তন এলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালটির দিকে যেন কারও নজর নেই। হাসপাতালের ভেতর ও আশপাশের পরিবেশ চরম অপরিচ্ছন্ন। প্রবেশ করতেই নাকে আসে তীব্র দুর্গন্ধ। এমন এক দমবন্ধকর ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হামসহ নানা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে।

একই ওয়ার্ডে হরেক রোগ: সুস্থ হতে এসে নতুন সংক্রমণ

সরকারি এই বিশেষায়িত হাসপাতালে হাম, এইচআইভি বা এইডস, ডায়রিয়া, বসন্ত (চিকেন পক্স), জলাতঙ্ক, ধনুষ্টংকার, কালাজ্বর, ডেঙ্গু, টাইফয়েড, ডিফথেরিয়া, ম্যালেরিয়া ও অ্যানথ্রাক্সসহ প্রায় সব ধরনের সংক্রামক রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া নিউমোনিয়া, জটিল ক্ষত এবং মৌসুমি ভাইরাসজনিত রোগীরাও এখানে আসেন।

বর্তমানে দেশে হামের সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালটিতে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। গত ২১ মে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের তিন, চার, সাত ও আট তলায় হামের রোগীদের চিকিৎসা চলছে। ওয়ার্ড, বারান্দা ও লিফটের সামনাসহ প্রায় সব জায়গায় রোগী ভর্তি। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো— একই ওয়ার্ডে হাম, চিকেন পক্স, ধনুষ্টংকারসহ বিভিন্ন রোগের রোগীরা একসঙ্গে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর ফলে এক রোগ নিয়ে এসে রোগীরা অন্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জের আসমা আক্তারের (১১) মা জানান, ১৫ দিন আগে মেয়ের চিকেন পক্স (বসন্ত) হওয়ায় এই হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি যাওয়ার ঠিক চারদিন পরেই মেয়ের আবার হাম হয়। এখন আবারও তাকে এই হাসপাতালে এনে ভর্তি করতে হয়েছে।

 

Link copied!