দেশে প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার এখনো আশঙ্কাজনক হারে অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, এই ধরনের প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং কার্যকর বিকল্প নিশ্চিত না করা গেলে পরিবেশের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এর অধিকাংশই বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার সামগ্রীর মোড়ক থেকে উৎপন্ন হয়, যা পরে নদী, খাল, জলাশয় ও সমুদ্রে গিয়ে দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর কয়েকশ কোটি প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করা হলেও তার অল্প অংশ পুনর্ব্যবহারের আওতায় আসে। বাকি বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বিভিন্নভাবে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে, যা জলজ প্রাণী, জীববৈচিত্র্য এবং নগর এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।
এসডোর আরেকটি জরিপে উঠে এসেছে, বাজার পর্যায়ে পলিথিনের ব্যবহার এখনও ব্যাপক। একজন দোকানদার প্রতিদিন গড়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করেন। যদিও অধিকাংশ বিক্রেতা জানেন যে পলিথিন নিষিদ্ধ, তবুও সহজলভ্য ও কার্যকর বিকল্পের অভাবে তারা এর ব্যবহার বন্ধ করতে পারছেন না।
গবেষকরা বলছেন, প্লাস্টিক বর্জ্যের একটি অংশ ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়ে খাদ্যচক্রে প্রবেশ করছে। সাম্প্রতিক এক পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন বাজার থেকে সংগ্রহ করা মাছের বড় অংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক-সংশ্লিষ্ট উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদে এসব উপাদান মানবদেহে প্রবেশ করে হরমোনজনিত সমস্যা, প্রজনন জটিলতা এবং ক্যানসারের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পরিবেশবিদদের মতে, শুধু আইন করেই প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব বিকল্প সহজলভ্য করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ভবিষ্যতে দেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :