জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাসার সামনে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। বাসার সামনের একটি ল্যাম্পপোস্টে আধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে জেলা পুলিশের দাবি, এই উদ্যোগ শুধু আইভীর বাসাকে কেন্দ্র করে নয়। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে একাধিক স্থানে নজরদারি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোট চারটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, সাধারণ মানুষ ও শুভানুধ্যায়ীরা সাবেক মেয়রের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। তবে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ বা সংগঠিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যবেক্ষণ করবে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার গভীর রাতে জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ বাসায় ফেরেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর থেকেই আত্মীয়স্বজন, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আগমন শুরু হয়। বৃহস্পতিবার বাসায় আগতদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি কারাজীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং ব্যক্তিগত জীবনের কিছু আবেগঘন মুহূর্তের কথাও জানান।
এদিকে তাঁর বাসার পারিবারিক খানকায় ‘গাদিরে খুম’ উপলক্ষে ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশ নিয়ে আইভী বলেন, কারাগারে অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশীলনে মনোযোগী ছিলেন এবং মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন সেলিনা হায়াৎ আইভী। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর সম্প্রতি তিনি মুক্তি লাভ করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা আইভী ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর টানা তিন মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

আপনার মতামত লিখুন :