চীন-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভয়াবহ অনলাইন প্রতারণা ও মানব পাচার চক্রে জড়িত থাকার দায়ে মিয়ানমারের কুখ্যাত ‘মিং পরিবার’-এর ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, এই অপরাধচক্র ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে একাধিক চীনা নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে।
চীনা বিচার বিভাগের তথ্যমতে, অভিযুক্তরা অনলাইন প্রতারণা, অবৈধভাবে মানুষ আটকে রাখা, জুয়া পরিচালনা এবং পাচারকৃত শ্রমিকদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। ভুক্তভোগীদের জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কল সেন্টার ও অনলাইন স্ক্যাম কার্যক্রমে যুক্ত করা হতো, যেখানে নির্দয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তারা।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানায়, মিয়ানমারের শান প্রদেশে সশস্ত্র সংঘর্ষের সময় সীমান্তবর্তী শহর লাউক্কাইংয়ের নিয়ন্ত্রণ বদলের পর মিং পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। একসময় এই এলাকাটি ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় স্ক্যাম ও অবৈধ জুয়া কেন্দ্র। গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তদের চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে স্থানান্তর করা হয় এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আদালত তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে চীন অন্যান্য আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্কের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে। বেইজিং জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় আরও কয়েকটি প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে বাই, ওয়েই ও লিউ পরিবারের কিছু সদস্যও একই ধরনের গুরুতর অভিযোগে বিচারাধীন রয়েছেন এবং তাদের কেউ কেউ মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি।
জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অনলাইন স্ক্যাম চালাতে গিয়ে কয়েক লাখ মানুষ মানব পাচারের শিকার হয়েছেন। এসব প্রতারণায় চীনা নাগরিকদের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি এবং প্রতিবছর এই অপরাধের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শূন্য দশকের শুরুতে চীন সীমান্তবর্তী লাউক্কাইং অঞ্চলে মিং পরিবারের প্রভাব বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে তারা এলাকাটিকে ক্যাসিনো, অবৈধ যৌন ব্যবসা ও অনলাইন প্রতারণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে। উদ্ধার পাওয়া শ্রমিকদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, সেখানে কঠোর পাহারার মধ্যে আটকে রেখে নিয়মিত মারধর ও অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো।

আপনার মতামত লিখুন :