মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত নতুন এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম উঠে আসার পর বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার। শুক্রবার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, তথাকথিত ‘এপস্টেইন ফাইল’-এর একটি ই-মেইলে প্রধানমন্ত্রীর নাম এবং তাঁর ইসরায়েল সফরের উল্লেখের বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ২০১৭ সালে নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফর ছিল সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক কর্মসূচির অংশ, এর বাইরে অন্য যেসব দাবি করা হচ্ছে সেগুলো একজন দণ্ডিত অপরাধীর কল্পনাপ্রসূত বক্তব্য ছাড়া কিছুই নয়।
ভারত সরকার জানায়, মার্কিন বিচার বিভাগ নতুন নথি প্রকাশ করার পরই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, ওই সফরের সঙ্গে জেফ্রি এপস্টেইন বা তার কোনো নেটওয়ার্কের সম্পর্ক ছিল না এবং এমন দাবি করা সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন।
মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে ৩০ লাখেরও বেশি দলিল, দুই হাজারের বেশি ভিডিও এবং প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব নথির একটি বড় অংশ এর আগে প্রকাশিত প্রাথমিক নথিতেও ছিল না।
এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের আওতায় এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক চাপ ও জনরোষের প্রেক্ষাপটে প্রণীত এই আইনে জেফ্রি এপস্টেইন এবং তার সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে জেফ্রি এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। মানব পাচার ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তারের এক মাসের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে, যা পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করে।

আপনার মতামত লিখুন :