ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:৩৭ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ৩৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত নভেম্বর মাসে দেশটির আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই ঘাটতি রেকর্ড মাত্রায় উঠেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে মূলধনী ও ভোক্তা পণ্যের আমদানি বৃদ্ধিই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিস এবং সেন্সাস ব্যুরো প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বর মাসে বাণিজ্য ঘাটতি আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৯৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে। শতাংশের হিসাবে এটি ১৯৯২ সালের পর সর্বোচ্চ। যদিও অর্থনীতিবিদরা ধারণা করেছিলেন, ঘাটতির পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি থাকবে।

৪৩ দিনের সরকারি শাটডাউনের কারণে প্রতিবেদনটি প্রকাশে দেরি হলেও প্রকাশিত তথ্য অর্থনীতিবিদদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানি পাঁচ শতাংশ বেড়ে ৩৪৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে পণ্য আমদানি বেড়েছে ছয় দশমিক ছয় শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ২৭২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে।

মূলধনী পণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কম্পিউটার ও সেমিকন্ডাক্টর আমদানির প্রবৃদ্ধি এতে বড় ভূমিকা রাখে। তবে কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক পণ্যের আমদানি কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে ভোক্তা পণ্যের আমদানিও রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে, যেখানে ওষুধজাত পণ্যের আমদানি ছিল প্রধান চালিকাশক্তি। বিপরীতে শিল্প সরবরাহ সামগ্রীর আমদানি কমেছে।

অন্যদিকে রফতানিতে নেতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট রফতানি কমে দাঁড়িয়েছে ২৯২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে। পণ্য রফতানি পাঁচ শতাংশের বেশি কমেছে। বিশেষ করে শিল্প সরবরাহ ও উপকরণ, মূল্যবান ধাতু এবং অপরিশোধিত তেলের রফতানিতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। শুধুমাত্র অপরিশোধিত তেলের রফতানি কমেছে এক দশমিক চার বিলিয়ন ডলার।

ভোক্তা পণ্যের রফতানিও কমেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। তবে সেবা খাতে কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। সেবা খাতের আমদানি কমলেও রফতানি রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য ঘাটতির এই বৃদ্ধি চতুর্থ প্রান্তিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসে সংশোধন আসার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। যদিও ২০২৫ সালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে বাণিজ্য খাত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রেখেছিল।

Link copied!