ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ইউক্রেনে এক সপ্তাহের জন্য সামরিক হামলা স্থগিত রাখবে পুতিন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:৪৫ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনে আগামী এক সপ্তাহের জন্য রাশিয়া কোনো সামরিক হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে এই আশ্বাস দিয়েছেন। তীব্র শীত পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে এই হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প।

ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার মার্কিন মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে হামলা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি সরাসরি পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট সেই অনুরোধে সম্মতি দিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, তাঁদের মধ্যকার আলোচনা ছিল “খুবই ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ”।

এর আগে বুধবার ইউক্রেনের একজন সংসদ সদস্য অ্যালেক্সেই গোনচারেঙ্কো দাবি করেছিলেন, ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান।

বর্তমানে ইউক্রেনে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে এবং আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে তা আরও কমে মাইনাস ১৩ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা সাধারণ মানুষের জন্য বড় সংকট তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এই অভিযানে ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারি রাতে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এতে ১ হাজার ৩৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ ১২ লাখের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে।

ইউক্রেনের বিদ্যুৎমন্ত্রী ডেনিস শ্মিগাল জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনো ১০ লাখের বেশি বাড়িঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

Link copied!