ঢাকা শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ থেকে কার্ডনীতি, বিএনপির পরিকল্পনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬, ০৯:৪২ সকাল

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে তারেক রহমান যে ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেটি এখন কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়—বরং সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে সামনে আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমান সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি, কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন ধরনের নাগরিক কার্ড চালুর উদ্যোগকে একই ধারার অংশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা।

লন্ডনে প্রায় ১৭ বছর কাটিয়ে দেশে ফেরার পর রাজধানীর পূর্বাচলে লাখো মানুষের সমাবেশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান বলেছিলেন, “আই হ্যাভ আ প্ল্যান; ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।” পরে তিনি সমর্থকদের সঙ্গে “উই হ্যাভ আ প্ল্যান” স্লোগানও উচ্চারণ করেন। সেই সময় থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ফুয়েল কার্ড ও হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ সেই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এই কার্ডভিত্তিক সেবা কাঠামোর সঙ্গে কি তারেক রহমানের ঘোষিত পরিকল্পনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি মনে করেন, তারেক রহমানের পরিকল্পনা তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি হয়নি; বরং এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চিন্তার ফল। তার ভাষ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান-এর কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নভিত্তিক রাজনৈতিক দর্শনের আধুনিক রূপই বর্তমান কার্ডব্যবস্থা।

তিনি বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড মূলত সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির অংশ। অন্যান্য কার্ড সময়ের চাহিদা অনুযায়ী যুক্ত হয়েছে।

বিএনপির তথ্য সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বলেন, সরকারের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মাধ্যমে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অভ্যন্তরীণভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

তার মতে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ প্রতিটি খাতে কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করেই নীতিমালা সাজানো হচ্ছে। খাল খনন কর্মসূচিকে তিনি শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষির জন্য বহুমুখী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে নতুন কর্মসংস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, পরিকল্পনার ধারণা ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে দুর্নীতি ও দলীয় প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সুবিধা পায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে ‘এক ব্যক্তি, এক কার্ড’ ভিত্তিক ডিজিটাল সেবা কাঠামো গড়ে তোলা। এতে নাগরিকদের তথ্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে এবং রাষ্ট্রীয় সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রান্তিক মানুষের কাছে সরাসরি রাষ্ট্রীয় সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে। তবে পুরো ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

Link copied!