ঢাকা শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে ঝুঁকিতে ঢাকার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬, ০৯:৫৯ সকাল

ছবি: সংগৃহীত

স্মার্টফোন, টেলিভিশন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে রাজধানীর শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুদের ঘুম কমে যাচ্ছে, বাড়ছে মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, স্থূলতা এবং আচরণগত জটিলতা।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) পরিচালিত গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ শিশুর ওপর এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়। পরে গবেষণাটি প্রকাশিত হয় আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ হিউম্যান ফ্যাক্টরস-এ।

গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে চারজন প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনে কাটায়। গড়ে একজন শিশু দিনে প্রায় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার বা গেমিং ডিভাইস ব্যবহার করছে।

গবেষকদের মতে, যারা দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার করছে, তাদের ঘুমের পরিমাণও কমে যাচ্ছে। এসব শিশু গড়ে মাত্র ৭ দশমিক ৩ ঘণ্টা ঘুমায়, যেখানে সুস্থ বিকাশের জন্য ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। একইসঙ্গে এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু নিয়মিত মাথাব্যথার অভিযোগ করেছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত। পাশাপাশি প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় দুইজন দুশ্চিন্তা, অতিচঞ্চলতা ও আচরণগত সমস্যার মতো মানসিক জটিলতায় ভুগছে।

গবেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। খেলাধুলা ও শারীরিক কার্যক্রম কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও হ্রাস পাচ্ছে, যা মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

গবেষণার প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআর,বির অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ডা. শাহরিয়া হাফিজ কাকন বলেন, শিশুদের দেরিতে ঘুমানো, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগ কমে যাওয়া কিংবা বাইরের খেলাধুলায় অনীহা—এসব লক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এগুলো অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ইঙ্গিত হতে পারে।

তিনি শিশুদের চোখের সুরক্ষায় ‘২০-২০-২০’ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ড ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, প্রযুক্তি পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে স্ক্রিন ব্যবহারের সময় নির্ধারণ জরুরি। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের পর্যাপ্ত ঘুম, খেলাধুলা ও ডিভাইসমুক্ত পারিবারিক সময় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

 

Link copied!