কুড়িগ্রামে মাত্র ১৩৫ টাকায় বন্ধক রাখা ৯ শতক জমি ফিরে পেতে একটি পরিবারকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ৬৫ বছর। কয়েক প্রজন্ম ধরে চলা আইনি লড়াই শেষে অবশেষে আদালতের নির্দেশে জমির দখল বুঝে পেয়েছেন প্রকৃত মালিকের উত্তরাধিকারীরা।
ঘটনার শুরু পঞ্চাশের দশকে। পারিবারিক প্রয়োজনে নিজের ফুফাতো ভাইয়ের কাছে ১৩৫ টাকার বিনিময়ে ৯ শতক জমি বন্ধক রাখেন আলেপ উদ্দিন। পরে টাকা পরিশোধ করা হলেও জমি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ বাড়তে থাকলে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জমির দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় টাউন চেয়ারম্যানের কাছে। পরে চেয়ারম্যান সেই জমি অন্য এক ব্যক্তির জিম্মায় দেন।
নিজেদের জমির অধিকার ফিরে পেতে ১৯৬১ সালে আদালতে মামলা করেন আলেপ উদ্দিন। তবে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই ১৯৭২ সালে তিনি মারা যান। এরপর তার ছেলে আব্দুস সাত্তার ও পরিবারের সদস্যরা মামলা চালিয়ে যান।
দীর্ঘ সময় ধরে নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত আপিল ও শুনানি চলতে থাকে। অবশেষে আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশে বুধবার বিকেলে কুড়িগ্রাম সদর পৌর এলাকার চরুয়া পাড়ায় জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয় বাদী পক্ষকে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সরকারি সার্ভেয়ার ও পুলিশের উপস্থিতিতে জমির দখল হস্তান্তর করেন। এ সময় মৃত বছির উদ্দিনের উত্তরাধিকারীরা উপস্থিত না থাকলেও জমির জিম্মাদার হিসেবে থাকা ব্যক্তিরা সেখানে ছিলেন।
স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে লাল পতাকা উড়িয়ে ও ঢাকঢোল বাজিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি দেখতে আশপাশের বহু মানুষ জড়ো হন।
যদিও মামলাটি ছিল ৯ শতক জমি নিয়ে, বাস্তবে পরিবারটিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে ৬ দশমিক ৬৮ শতক জমি। বাকি অংশ বর্তমানে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আব্দুস সাত্তার বলেন, বাবার শুরু করা আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত তারা চালিয়ে গেছেন। নানা প্রতিকূলতা ও দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার পর আদালত তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। বাবার জীবদ্দশায় জমি ফিরে না পাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও উত্তরাধিকার হিসেবে সেই জমি ফেরত পাওয়াকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :