ঢাকা শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের বেশিরভাগই ৯ মাসের কম বয়সী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬, ০৯:৫৩ সকাল

ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান হাম পরিস্থিতিতে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গে মারা যাওয়া শিশুদের বড় একটি অংশের বয়স ছিল ৯ মাসের কম। চিকিৎসকদের ভাষ্য, এ বয়সের শিশুরা এখনো নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম-রুবেলা টিকা পাওয়ার সুযোগ পায় না, ফলে তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে গত ১৫ মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৮৫ শিশুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৫৪ জনের বয়স ৯ মাসের নিচে। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর প্রায় ৬৩ শতাংশই টিকা গ্রহণের বয়স হওয়ার আগেই ঘটেছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে মারা যাওয়া ২৯ শিশুর মধ্যে ১৯ জনের বয়স ছিল ৯ মাসের কম। বাকি ১০ শিশুর বয়স ছিল ১০ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে। এসব শিশুর প্রায় সবাই রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসেছিল।

অন্যদিকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৩৪ শিশুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৯ জনের বয়সই ৯ মাসের নিচে। হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. এফ এম আসমা খান বলেন, অধিকাংশ শিশুই হামের পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃতদের বেশিরভাগই অপুষ্টিতে ভুগছিল।

তিনি বলেন, দেশের নিয়ম অনুযায়ী ৯ মাস বয়সে প্রথম হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু টিকা নেওয়ার আগেই শিশুরা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির পেছনে মাতৃগর্ভ বা বুকের দুধের মাধ্যমে শিশু পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি পাচ্ছে কি না, তা নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

ডিএনসিসি হাসপাতালে গত মার্চ থেকে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৪ হাজার ৬৭৯ জন রোগী। এর মধ্যে ৮০০ জনের বয়স ছিল ৯ মাসের কম। হাসপাতালটির চিকিৎসক ডা. মাহমুদা ইসলাম স্নিগ্ধা জানান, মৃত শিশুদের অনেকেই নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ ও হার্ট ফেইলরের মতো জটিলতায় ভুগছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২১ জেলায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হয়েছে ৬০ জনের। এদের প্রায় অর্ধেকেরই টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হামের টিকা কাভারেজ কমে যাওয়ায় ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, আগে টিকাদানের উচ্চ হার থাকায় ভাইরাস সহজে ছড়াতে পারত না। কিন্তু বর্তমানে টিকা কভারেজ কমে যাওয়ায় শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সীদের মধ্যেই সংক্রমণ বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, নতুন কোনো ভাইরাস স্ট্রেইন বা গঠনগত পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা নিয়ে গভীর গবেষণা জরুরি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে দেশে হাম ও উপসর্গে মারা গেছে ৪৩৯ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৭০ জনের। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৩০৫ জন এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৪ হাজারের বেশি মানুষ। আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।

 

Link copied!