ঢাকা রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাবারের মান নিয়ে কড়াকড়ি, জরুরি নির্দেশনা জারি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬, ০৯:২২ রাত

সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’র আওতায় বিতরণ করা খাবারের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নিম্নমানের বা পচা খাবার সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পচা বনরুটি, নষ্ট ডিম ও নিম্নমানের কলা বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সরবরাহ করা খাদ্যসামগ্রী গ্রহণের আগে মান ও পরিমাণ যাচাই করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে, খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের কাছে নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়া যায়।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া খাদ্যদ্রব্য নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সময়মতো খাবার বিতরণ এবং খাদ্যপণ্যের ধরন অনুযায়ী সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থাও বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

বিশেষভাবে বনরুটির মান যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রুটি অবশ্যই তাজা, নরম ও সঠিকভাবে মোড়কজাত হতে হবে। প্যাকেটে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, নির্ধারিত ওজন এবং প্যাকেজিংয়ের অক্ষত অবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

ডিমের ক্ষেত্রে ফাটা, দুর্গন্ধযুক্ত বা পিচ্ছিল ডিম গ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কলা হতে হবে দাগমুক্ত ও পোকামাকড়বিহীন। অতিরিক্ত পাকা কিংবা পচা কলা বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশও রয়েছে।

এ ছাড়া ইউএইচটি দুধ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ বিস্কুটের ক্ষেত্রেও উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের সময় এবং প্যাকেটের ওজন যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই ত্রুটিপূর্ণ বা নিম্নমানের খাবার গ্রহণ করা যাবে না। এ বিষয়ে দায়িত্বে অবহেলা, শৈথিল্য বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Link copied!