গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনের অগণতান্ত্রিক ধারাগুলো বাতিল বা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিলকে আরও কার্যকর করা, সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি, অপতথ্য মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেক ব্যবস্থা জোরদার এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধের বিষয়েও আলোচনা হয়।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের নেতারা বলেন, দেশে গণমাধ্যম–সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু আইন পুরোনো ও সময়োপযোগী নয়। এসব আইনের কিছু ধারা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। বিশেষ করে পত্রিকা প্রকাশের ঘোষণাপত্রে সরকারের স্বার্থবিরোধী কিছু প্রকাশ না করার যে শর্ত রয়েছে, তা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন তাঁরা।
প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয় বৈঠকে। একই সঙ্গে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে বলে মত দেন সম্পাদকরা। এ জন্য সংবাদপত্রগুলোতে ‘ফ্যাক্ট-চেক’ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও উঠে আসে।
গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়েও আরও বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করেন সম্পাদক পরিষদের নেতারা। এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরির পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া বিভিন্ন মামলার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে শতাধিক সাংবাদিক বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি। তাঁদের মতে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া উচিত, তবে হয়রানিমূলক মামলা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা ও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :