কঠোর নজরদারি ও কড়াকড়ির মধ্য দিয়ে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এখন শুধু মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একটি তত্ত্বীয় পরীক্ষা বাকি রয়েছে। এবারের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও নকলের অভিযোগে এখন পর্যন্ত ২০৮ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছে। একই সময়ে সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল প্রায় ১ লাখ ৮৩ হাজার পরীক্ষার্থী।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রকাশিত দৈনিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে মোট ৪২টি বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষার্থীরাও তাদের নির্ধারিত পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। শুধু মাদ্রাসা বোর্ডের একটি পরীক্ষা এখনও বাকি রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পরীক্ষার শুরু থেকেই নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় শিক্ষা বোর্ডগুলো। প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় সাধারণ বোর্ডে দুই শিক্ষার্থী এবং মাদ্রাসা বোর্ডে চার শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়। একই দিনে কারিগরি বোর্ডের এক কক্ষ পরিদর্শককেও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।
পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও বহিষ্কারের ঘটনা অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে ইংরেজি, আরবি ও গণিত পরীক্ষায় তুলনামূলক বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়। ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষায় সাধারণ বোর্ডে ২১ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ১৫ জন এবং কারিগরি বোর্ডে চারজন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়। আবার ২৮ এপ্রিল ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র ও আরবি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় সাধারণ ও মাদ্রাসা বোর্ড মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়।
পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকলেও অনুপস্থিতির সংখ্যা উদ্বেগ তৈরি করেছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। ১৪ দিনের পরীক্ষায় তিনটি মাধ্যম মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়নি। এর মধ্যে শুধু সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডেই অনুপস্থিত ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ২৭৫ জন শিক্ষার্থী।
বোর্ডভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনুপস্থিতির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে ২৮ হাজার ৮৫৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বোর্ড, যেখানে ১৭ হাজার ১৫০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এছাড়া যশোর, দিনাজপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বোর্ডেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।
অন্যদিকে সবচেয়ে কম অনুপস্থিতি দেখা গেছে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে। সেখানে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ১৬৯ জন। বরিশাল বোর্ডেও তুলনামূলক কম সংখ্যক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।
তবে শতকরা হারের হিসাবে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডে অনুপস্থিতির হার ছিল বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব বোর্ডে প্রতি পরীক্ষায় গড়ে ৫ থেকে ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল, যেখানে সাধারণ বোর্ডগুলোতে এ হার ছিল ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. খন্দকার এহসানুল কবির জানিয়েছেন, অনুপস্থিতির কারণ জানতে এবারও মাঠপর্যায়ে জরিপ চালানো হবে। তার ভাষ্য, কেন এত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তা খতিয়ে দেখতে বোর্ডগুলো তথ্য সংগ্রহ করবে এবং পরে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :